June 16, 2026, 9:11 pm

নাজমুল ইসলাম, দৌলতপুার/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে অবশেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে বিএসএফ ১২ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি তাদের শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং শূন্যরেখায় অবস্থান নিশ্চিত করে। দীর্ঘ সময় তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবিক সংকটে অবস্থান করছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন বিকেলে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরদিন শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেদিনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ফলে ১২ জনকে শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হয়।
এ সময় বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় নেয় বিএসএফ।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ। এছাড়া রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।
দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, প্রচণ্ড গরম, মশার উপদ্রব এবং অপ্রতুল খাবার ও পরিচর্যার কারণে ওই ১২ জন মানবিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েন বলে জানা যায়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়লেও সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের অবস্থান অব্যাহত ছিল।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।